June 29, 2022

Knight TV

fight for justice

হাইকমান্ডের উপর ক্ষোভ, দলত্যাগ করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা

❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৯, ২০২১ ☵

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদকের পদসহ দলের সকল পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। সম্প্রতি সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ঘোষিত কমিটিতে তার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্থান না দিয়ে ‘সুবিধাবাদীদের স্থান’ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন।

বুধবার রাত জরুরি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দলের হাইকমান্ডসহ নীতিনির্ধারকদের তুলাধোনা করেন জামান। এর পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, আজ থেকে তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দেবেন না, তবে মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করবেন।

পদত্যাগপত্রে জামান বলেন, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হই। বিএনপির দুর্দিনে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালি সময়ে সাধ্যমতো সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছি। আমি কখনই হালুয়া-রুটির ভাগিদার হইনি। কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। উল্টো বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে আমাকে।

দলের মহাসচিবকে উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি আরও লেখেন— আপনার মতো বিজ্ঞ মানুষের স্মরণশক্তি যদি মহান আল্লাহ সঠিক রাখেন, তা হলে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে আমার ও আমার সহযোদ্ধাদের ভূমিকা আপনার মনে থাকার কথা।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো— ১৭ আগস্ট সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষিত হলো আমার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে।

সর্বোপরি যেসব সহযোদ্ধা আন্দোলন করতে গিয়ে জীবনবাজি রেখেছিল, গুলিবিদ্ধ হয়েছিল— এমনকি সমাজ ও সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, তাদের চরমভাবে উপেক্ষা করে উপহাসের পাত্রে পরিণত করা হলো।

মহাসচিব বরাবরে লেখা ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আজকে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে জানতে ইচ্ছে করে আপনার দলে নেতৃত্ব পেতে হলে যোগ্যতার মাপকাঠিটা কি? যারা দেশ ও দলকে ভালোবাসে, জীবনবাজি রাখে, দুর্দিনে যারা বিশ্বস্ত থাকে, বন্দুক-বেয়নেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তাদের পাওয়া উচিত, নাকি যারা লবিং-তদবির অথবা বিশেষ ব্যবস্থায় সব কিছু হাসিল করে তাদের পাওয়া উচিত?

তিনি নেতাদের উদ্দেশ্যে এও বলেন, ‘আপনারা প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় ইনসাফের দাবি তোলেন, কিন্তু নিজের অন্তর আত্মাকে একবারও জিজ্ঞেস করে দেখবেন কি? আপনারা নিজেদের কর্মীদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কি? আজকে সহযোদ্ধাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ প্রদর্শন করা হয়েছে অবশ্যই ‘প্রকৃতি’ এর প্রতিবিধান করবে।’

শামসুজ্জামান জামান তার রাজনৈতিক জীবনের ৩৬ বছর দলের জন্য সাদকা হিসেবে দান করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি এখন থেকে বিএনপির সঙ্গে তার আর কোনো সম্পৃক্ততা রইলো না বলেও দাবি করেন।

বুধবার রাতে সিলেট নগরীর মিরাবাজারের একটি অফিসে এ প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

এ ছাড়া আর উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন লস্কর, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মওদুদুল হক, আব্দুর রকিব তুহিন, প্রভাষক রায়হান উদ্দিন, ফয়েজ আহমদ দৌলত প্রমুখ।