June 27, 2022

Knight TV

fight for justice

সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক মোদির

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ৮ এপ্রিল সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আলোচনার মাধ্যমে কাজ চালালেও তিনি এখন বিরোধী দলের কোনো নেতার সঙ্গে বৈঠক করেননি। আর এটা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এ কারণে আগামী ৮ এপ্রিল বৈঠকের ডাক দিয়েছেন মোদি।
করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র সরাকরের কী করা উচিত, তা নিয়ে বিস্তর মত প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, পি চিদম্বরমসহ অনেকে। কেউ আবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেও পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মোদি কারোর সঙ্গেই এ নিয়ে সরাসরি আলোচনায় বসেননি। নিজের অবস্থান থেকে সরে এবার বিরোধীদের সঙ্গে করোনা নিয়ে তিনি আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী জানান, ৮ এপ্রিল বেলা ১১টায় করোনা মোকাবিলায় সর্বদল বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লকডাউনের নিয়ম মেনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যে দলগুলোর পাঁচজনের বেশি সাংসদ আছে সংসদের দুই কক্ষে সেই দলের সংসদীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে মোদির মতামতে বিরোধী দলের নেতারা সম্মতি জানালেও, এই কয়েকদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে সুর চড়তে শুরু করেছেন। দুইদিন আগে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর অন্তর্বর্তী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, কোনোরকম পরিকল্পনা ছাড়াই লকডাউনে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফলে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া অসংখ্য শ্রমিককে।

সোনিয়া গান্ধীর এ বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, কংগ্রেস সংকীর্ণ রাজনীতি করছে।
রাহুল গান্ধীর দাবি, ভারতের তুলনায় পাকিস্তানে বেশি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেদিক থেকে ভারত অনেক পিছিয়ে। হাততালি দিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে করোনা মোকাবিলার সমাধান সূত্র মিলবে না।

দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশবাসীর মধ্যে আতঙ্ক যাতে ক্ষোভে পরিবর্তন না হয় তাই হয়তো রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতেই এই বৈঠক ডেকেছেন মোদি। যাতে সবার পরামর্শ নিয়ে একটা উপায় বের করা যায়। লকডাউন ওঠার পর কী করা যাবে তা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের থেকে পরামর্শ চাইতে পারেন মোদি।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ভারতে আরও ৫২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে, আর এতে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে সবমিলিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে মোট ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, গেল মাসে দিল্লিতে তাবলিগ-ই-জামাতের সমাবেশে উপস্থিত কিছু মানুষের মাধ্যমেই দেশজুড়ে এই সংক্রমণ আরও দ্রুত হারে ছড়াচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওই জমায়েতে যারা হাজির হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৩৬০ জনেরও বেশি মানুষের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে।