June 29, 2022

Knight TV

fight for justice

শিশুকন্যা হবার অপরাধে ১৯ দিনের শিশুকে হত্যাকারী এক মা আটক !

❏ শনিবার, আগস্ট ১৪, ২০২১ ☵

মায়ের ইচ্ছে ছিলো কোল জুড়ে আসবে পুত্র সন্তান। কিন্তু বিধিবাম দশমাস গর্ভধারনের পর কোলজুড়ে এসেছিলো ফুটফুটে এক মেয়ে শিশু।
এই ঘটনা মেনে নিতে পারেননি গর্ভধারিনী মা। হতভাগ্য এই শিশুটির একমাত্র অপরাধ ছিলো মেয়ে শিশু হয়ে জন্মানোর!

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১৯ দিন বয়সি একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিলো ঘর থেকে। তবে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বাড়ির পাশের একটি খালের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির মরদেহ।

শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মা রত্না আক্তারকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আটক মাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাবেয়া নামে ১৯ দিন বয়সী এক কন্যা শিশুকে খালের পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন তারই মা। প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় রত্না আক্তার (১৯) নামের ওই নারী তার সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে আটক মা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বাইড়া ফরিদ ভান্ডারীর বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ঘর থেকে প্রবাসী মজিবুর রহমানের ১৯ দিনের শিশু রাবেয়া নিখোঁজ হয়।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বাড়ির পাশে খাল থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে পরিবারের সকল সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এসময় শিশুটির মা রত্নাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘুমন্ত শিশু রাবেয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে ছিলাম যাতে কেউ বুঝতে না পারে!

এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার টনকি ইউনিয়নের বাইড়া গ্রামের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে এদিন দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিশু রাবেয়া বাইড়া গ্রামের ফরিদ ভান্ডারী বাড়ির কাতার প্রবাসী মজিবুর রহমানের একমাত্র মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের দাদা বাচ্চু মিয়া বাদি হয়ে রাতে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় শিশুটিকে বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেন রত্না আক্তার। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

মামলার বাদি বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমরা বাড়ির পাশের একটি জমিতে কাজ করতে যাই। তখন আমার নাতনি ঘুমাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর রত্না আক্তারের চিৎকার শুনে বাড়ি গিয়ে শুনি তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

পরে সবাই মিলে বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে থাকি। সারাদিন কোথাও না পেয়ে সন্ধ্যায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের খালে মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীররা পুলিশে খবর দেন। কিন্তু ভাবতেও পারিনি মা নিজেই তার সন্তানকে হত্যা করবে। আমি এই পাষণ্ড মায়ের ফাঁসি চাই।’

বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান স্যার উপস্থিত থেকে শিশুটির মা রত্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এসময় রত্না আক্তার পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় সবার অগোচরে বাড়ির পাশে খালে ফেলে দেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।