June 27, 2022

Knight TV

fight for justice

লেখা পড়ার চেয়ে ভিজ্যুয়াল কিছুতেই তরুণদের ক্লিক পড়ছে বেশি

বিশ্লেষকেরা বলছেন, তরুণেরা সবকিছুই চাক্ষুষ চাচ্ছেন। ফলে ভিডিও প্রতিবেদনের চাহিদা বাড়ছে। একটি বিশাল লেখা পড়ার চেয়ে ভিজ্যুয়াল কিছুতেই তরুণদের ক্লিক পড়ছে বেশি। ফলে ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম,হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রচলিত সংবাদমাধ্যমকেও এসব প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতির জানান দিতে হচ্ছে জোরেশোরে। পশ্চিমা অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। এসব বিকল্প মাধ্যম অনেক ব্যক্তিকে বিখ্যাতও করে তুলছে, যেমন ইউটিউবার পিউডিপাই। এই ইউটিউব চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। অথচ আমেরিকার সব সংবাদপত্রের ছাপা ও ডিজিটাল মাধ্যম মিলিয়ে মোট সার্কুলেশন ৩ কোটির মতো।

নিন্দুকেরা বলছেন, তরুণেরা এসব বিকল্প মাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করছেন এবং সেগুলোতে ভেজালও থাকছে। কারণ, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও মূল ধারার গণমাধ্যমের মতো পেশাদারিত্ব রক্ষা ও সত্যাসত্য নির্ণয়ের ধার ধারছে না এসব বিকল্প মাধ্যম। প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, যারা কোনো খবর জানানোর ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যার দায় নিতে অপারগ। সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা মানা তো দূর অস্ত। উসকানিমূলক বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে হরদম। ফলে সমাজে বিভক্তি ও ভুল তথ্যের জোয়ার দেখা দিয়েছে। কারণ, বারবার দেখলে মিথ্যাকেও যে সত্য বলে ভ্রম হয়। বিশ্বের তরুণদের একটি অংশও অবশ্য এর সঙ্গে একমত।

মূল ধারার সংবাদমাধ্যমকে তাই অস্তিত্বের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যম গোষ্ঠী এখন সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে তাল মেলাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এতে যেমন ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে, তেমনি বড় বড় ব্র্যান্ডের (পড়ুন ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) আড়ালে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও আছে। মাঝখানে সত্য-মিথ্যার গ্যাঁড়াকলে পড়েছে সমাজ নামের বিমূর্ত বস্তুটি।