June 29, 2022

Knight TV

fight for justice

বসুন্ধরার মালিকপক্ষের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

করোনা মহামারির এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী দরিদ্র, দিনমজুর ও অসহায় মানুষদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভৈরব শহীদ আইভি রহমান পৌর স্টেডিয়ামে হতদরিদ্র ও শ্রমিকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় উপহার স্বরূপ প্রতিজনকে দেওয়া হয় ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ২ কেজি বসুন্ধরা আটা, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি ডাল ও গুঁড়ো মসলার প্যাকেট এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ৪টি মাস্ক।

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা পেয়ে ৬২ বছর বয়সী আজিজুল মিয়া নামের এক বৃদ্ধা অশ্রুসিক্ত নয়ন আর ভাঙা স্বরে জানান, একসাথে এত খাবার কখনোও কেনার সাধ্য হয়ে ওঠেনি তার। করোনার ভয়াল থাবায় ভ্যানচালক আজিজুলের অভাব অনটনের সংসারে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। পরিবার-পরিজনদের নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনের পর দিন পার করলেও এতদিন কোনো খাদ্য সহযোগিতা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি আজিজুলের। তাই বসুন্ধরার এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপরওয়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করে বসুন্ধরার মঙ্গল কামনা করেন তিনি।

জরাজীর্ণ দেহে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি শাড়ি পরনে দাঁড়িয়ে থাকা হাজেরা বেগম বলেন, আল্লাহর কাছে বসুন্ধরার মালিকপক্ষের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

জাহের মিয়া। পেশায় দিন মজুর। সুস্থ পৃথিবীতে তিনি টাকার বিনিময়ে ঘাম ঝড়িয়েছেন দীর্ঘকাল। কিন্তু এখন করোনায় অসুস্থ এই পৃথিবী দিন মজুরের জাহের মিয়ার জীবনেও হতাশার মাত্রা বাড়িয়েছে। জাহের মিয়া বলেন, ‘কুরুনার কারণে মানুষ নিজেই খাইতো পা না, আমডারে টেহা দিয়া কামো নিব কেমনে। মানষের কাছে টেহা থাকলে না মানুষ আমডারে কামো নিতো!’ পরে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে দেওয়া খাদ্য সামগ্রীর বস্তা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন জাহের মিয়া এবং বলেন, ‘আল্লাহ তোমরার ভালা করুক, অন্তরতে দুয়া করি’।

উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানা, ভৈরব পৌর মেয়র আলহাজ্ব ইফতেখার হোসেন বেনু , ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন, ভৈরব মুরশিদ মজিব উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ও কাউন্সিলর মো. মোমেনসহ আরো অনেকে। এছাড়াও বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিভাগের ম্যানেজার মো. মুকিতুল ইসলাম মুকিত, বসুন্ধরা সিমেন্ট সেক্টরের সিনিয়র ম্যানেজার মো. মনিরুল ইসলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলার (ভৈরব) মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা নিজের অভিমত প্রকাশে বলেন, হতদরিদ্র মানুষজনদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানরাও এই বিপদের সময়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বসুন্ধরার এসব মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি।

আমন্ত্রিত অতিথিদের পৌর মেয়র আলহাজ্ব ইফতেখার হোসেন বেনু বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে বসুন্ধরা গ্রুপ যেভাবে দেশের হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান এভাবে অসহায় মানুষের পাশে থাকলে অবশ্যই আমরা এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবো।

বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে আমন্ত্রিত অতিথি ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এটিই প্রমাণ করলো বসুন্ধরা গ্রুপ।