June 27, 2022

Knight TV

fight for justice

কিশোরী ধর্ষণ-হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন

১৮ আগস্ট, ২০২১

প্রায় সাড়ে সতেরো বছর আগে ২০০৪ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের লালনগর গ্রামে সাবিনা নামে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে শুকুর আলী নামের এক আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি নুরুদ্দিন সেন্টু, আজানুর রহমান ও মামুন হোসেনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ তিনজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিনজনকে সাজার ক্ষেত্রে রেয়াদ দেওয়ার বিষয়ে আইন ও কারাবিধি অনুযায়ী সকল সুবিধা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের অবিলম্বে কনডেম সেল থেকে স্বাভাবিক সেলে স্থানান্তর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল এ রায় দেন। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, এসএম আমিনুল ইসলাম শানু ও ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

এই মামলায় আপিল বিভাগে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, এই আসামিরা তরুন। তারা নৃশংসভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। দেশে এখন কিশোর গ্যাং-এর কথা আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি। তাই এসব আসামির সাজা বহাল রাখা প্রয়োজন। দেশের কিশোর গ্যাংদের একটি ম্যাসেজ দিতে হবে যে, অপরাধ করলে ছাড় পাওয়া যাবে না।

মামলা থেকে জানা যায়, প্রতিবেশির বাড়িতে টেলিভিশন দেখে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ রাতে দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের আব্দুল আজিজ ঝনুর মেয়ে সাবিনাকে (১৩) অপহরণ করে। এরপর গ্রামের ধরমগাড়ী মাঠের একটি তামাক ক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে কুপিয়ে সাবিনাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২৭ মার্চ সাবিনার পিতা আব্দুল আজিজ ঝনু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পরদিন ২৮ মার্চ আজানুর ও মামুন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলায় ওইবছরের ২৫ জুলাই একই গ্রামের খয়ের আলীর ছেলে শুকুর আলী, পিজাব উদ্দিনের ছেলে নুরুদ্দিন সেন্টু, আবু তালেবের ছেলে আজানুর রহমান, আব্দুল গনির ছেলে আলমগীর ওরফে কামু ও সিরাজুল প্রামাণিকের ছেলে মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ওইবছরের ১৭ আগস্ট শুকুর ও ৭ সেপ্টেম্বর সেন্টু আদালতে আত্মসমর্পন করে। মামলায় বিচার শেষে ২০০৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচ জনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয় কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়।

পাশাপাশি কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন। কারাবন্দি অবস্থায় কামরুল মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ১১ মে অপর চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দি আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করে। এ আপিলের ওপর শুনানি গত ১১ আগস্ট শুনানি সম্পন্ন হয়। এ অবস্থায় আজ রায় দিলেন আপিল বিভাগ।